হজ্জের পর হাজী সাহেবের করণীয়
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যাঁর নেয়ামতেই সকল সৎকাজসমূহ সম্পন্ন হয়ে থাকে, আর তাঁর দয়াতেই সকল ইবাদাত কবুল হয়ে থাকে। আমরা তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি, আর এ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোন হক মা‘বুদ নেই এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ্ তার উপর, তার পরিবার ও সঙ্গী সাথীদের উপর দুরুদ প্রেরণ করুন এবং বহু পরিমানে সালাম পেশ করুন। তারপর,
হজ্ সম্পন্ন হওয়ার পর করণীয় কী?
হজের কার্যাদি পূর্ণ হয়েছে, আর এই মাসসমূহ তাদের কল্যাণ ও বরকত নিয়ে চলে গেছে। মুসলিমগণ তাদের ফরয ও নফল হজ্ সম্পন্ন করেছেন। যাদের হজ কবুল হয়েছে, তারা তাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে নিয়ে পবিত্র হয়ে ফিরে এসেছেন। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পুরস্কার।
মুসলিমদের জন্য নেক আমল কবুল হওয়ার কয়েকটি চিহ্ন আছে। একটি চিহ্ন হলো, আমলের পরে আল্লাহর ইবাদতে আরও বেশি নিয়োজিত থাকা এবং পাপ কাজ থেকে দূরে থাকা। যদি হাজী সাহেব হজ থেকে ফিরে আসার পর আল্লাহর আনুগত্যে অগ্রণী হন এবং পাপ কাজ থেকে দূরে থাকেন, তবে এটি আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে তার আমল কবুল হওয়ার নিদর্শন।
আল্লাহর প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা
হে বাইতুল্লাহর হাজী, হজের সময় আপনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়েছেন, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’। এ সাড়া যেন আপনার জীবনের প্রতিটি কাজে প্রতিফলিত হয়। আল্লাহর প্রতি আনুগত্যে সর্বদা সচেষ্ট থাকুন, কেননা, যিনি হজের সময়ের রব, তিনিই সকল সময়ের রব।
“আর আপনার রবের ইবাদত করুন, যতক্ষণ না আপনার কাছে মৃত্যু আসবে।” (সূরা আল-হিজর: ৯৯)
কল্যাণের মওসুম ও জীবনের পরিবর্তন
হজের সময়কাল আল্লাহর পূর্ণ আনুগত্যে ফিরে যাওয়ার এক মওসুম। এটি এমন কোন স্টেশন নয় যেখানে পাপমুক্তি পাওয়া গেল, এরপর আবার গুনাহের পথে ফিরে যাওয়া। বরং এটি এমন একটি সময় যখন গাফেল মানুষ সতর্ক হয়ে তাদের পাপ থেকে ফিরে আসে এবং আল্লাহর প্রতি তাওবাহ করে।
“আর নিশ্চয় যারা তাওবাহ করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তারপর হিদায়াত গ্রহণ করে আমি তাদের জন্য অধিক ক্ষমাশীল।” (সূরা ত্বহা: ৮২)
সাবধানবাণী
কিছু মারাত্মক বিষয় রয়েছে যা থেকে প্রত্যেক মুসলিমকে সতর্ক থাকা জরুরি, যেমন ফরয সালাত আদায়ে গাফেল থাকা। আল্লাহর সম্মানিত ঘরের হজ সম্পন্ন করার পর, নিয়মিত সালাত আদায়ে অবহেলা করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। মহান আল্লাহ সালাত পরিত্যাগকারীদের জন্য কঠোর সাবধানবাণী দিয়েছেন।
আল্লাহ্ আমাদের সকলকে হজের পরপরই নিয়মিত সালাত সহ সকল ইবাদতে দৃঢ় থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।
